ইতিহাসে প্রথম মৃত নারীর জরায়ুতে শিশুর জন্মচিকিৎসা

বিজ্ঞানের আরেকটি বিস্ময়কর সাফল্য ধরা দিয়েছে মানুষের হাতে। জীবিত মানুষের জরায়ু অন্যের শরীরে স্থানান্তর করে সন্তান জন্ম দেয়া সম্ভব হলেও মৃত মানুষের ক্ষেত্রে তা ব্যর্থ হচ্ছিল বারবার। অবশেষে ১১বার চেষ্টার পর সফল হয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।ব্রাজিলে ৪৫ বছর বয়সী এক নারীর জরায়ু অপর ৩২ বছর বয়সী এক নারীর শরীরে স্থানান্তর করা হয়। ২০১৬ সালে জরায়ু স্থানান্তর করার পর ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সফলভাবে সন্তান জন্ম দেন ওই নারী।ব্রাজিলের সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালের এ ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অবিস্মরণীয় অগ্রগতি হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নিঃসন্তান নারীদের জন্য এটি নতুন আসার আলো।দুই নারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং গবেষণার নিরাপত্তার কারণে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। চিকিৎসা বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী ল্যানসেটে সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন সাও পাওলো বিশ্ববিদ্যালয়েল সংশ্লিষ্ট গবেষক ও চিকিৎসকরা। তবে এখনো তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।যে নারীর দেহে মৃত নারীর জরায়ুটি স্থানান্তর করা হয়েছিল জন্ম থেকেই ওই নারীর জরায়ু ছিল না। তিনি জন্মগতভাবে মেয়ার রকিটান্সকি কুস্টার হজার সিন্ড্রোম (এমআরকেএইচ ) রোগে ভুগছিলেন।যিনি জরায়ু দান করে গিয়েছেন তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। মারা যাওয়ার আগে নিজের জরায়ু, কিডনি ও লিভারসহ অন্যান্য অঙ্গ দান করে যান।তার মৃত্যুর পর দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার চেষ্টায় জরায়ু স্থানান্তর করতে সফল হয় ডাক্তাররা। জরায়ুহীন নারীর দেহে জরায়ু স্থানান্তরের ৩৭ দিন পর তার রক্তশ্রাব হয় এবং কিছু দিনের মধ্যে তিনি গর্ভধারণ করেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *