গুগল, অ্যাপল, ফেইসবুকে ইন্টারভিউ’র মুখে

বড় প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির ইন্টারভিউ-তে কৌশলী প্রশ্নের নজির নতুন নয়। এ ধরনের প্রশ্ন প্রার্থীদের জটিল চিন্তাশক্তি আর যৌক্তিক দক্ষতা তুলে ধরার জন্য ভাল উপায় হতে পারে। আবার যথাযথভাবে উত্তর দিতে না পারলে প্রার্থীর হোঁচট খাওয়ার কারণ হতে পারে এই প্রশ্নগুলোই।

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জেসিকা পয়েন্টিং গুগল, অ্যাপল, ফেইসবুক, মাইক্রোসফট, ম্যাককিনসে, বাইন, গোল্ডম্যান স্যাকস আর মরগ্যান স্ট্যানলি -এর মতো প্রতিষ্ঠান থেকে ইন্টার্নশিপ অফার পেয়েছেন। কীভাবে বিভ্রান্তিকর এসব প্রশ্ন তিনি মোকাবেলা করেছেন তা নিয়ে নিজের কথা তুলে ধরেছেন ব্যবসা-বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন সাইট বিজনেস ইনসাইডার-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে।

পয়েন্টিং নিজের ওয়েবসাইট, দ্য অপটিমাইজড গাইড-এ শিক্ষা আর ক্যারিয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন। সরাসরি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করে স্বীকার করেন যে এসব প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউয়ের সময় অনেক বিভ্রান্তিকর প্রশ্নে তিনিও হচকিত হয়েছিলেন।

“আমার মনে আছে, আমি ভেবেছিলাম ‘কীভাবে উত্তর দেব তার ধারণাই আমার নেই। আমি ইন্টারভিউ-তে ভাল করতে পারছি না” তিনি বলেন। তবে তিনি জানান, এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন সামলানোর প্রথম ধাপ হচ্ছে মন থেকে উদ্বেগ দূর করা।

“এ ধরনের কৌশলী প্রশ্ন এলে যে কোনো নেতিবাচক চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন”, তিনি বলেন। “ভাবুন, ‘ঠিক আছে, আমি এটি পারব- এখন কীভাবে আমি তা এগিয়ে নেব?”-

পয়েন্টিং বলেন।

এমন ধাঁধাঁয় ফেলা প্রশ্নের উত্তর দিতে তিনটি ধাপ অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি-

১। প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করুন

২। যুক্তি দিয়ে কথা বলুন

৩। আপনার অনুমানের ভিত্তিতে একইভাবে অনেক প্রশ্ন করুন

তিনি জানান, কারও ভাবনার প্রকাশ ইন্টারভিউতে প্রশ্নকর্তাদেরকে তার চিন্তাধারা বুঝতে এবং যে কোনো সমস্যা সম্পর্কে তার ভাবার ক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা দেবে। সেইসঙ্গে যদি আপনি ভুল পথেও থাকেন তাহলে প্রশ্নকর্তা আপনাকে অত্যন্ত উৎসাহী হয়ে সে বিষয়ে ইঙ্গিত দেবেন।

“ইন্টারভিউ-তে মাধ্যমে প্রশ্নকর্তা আপনার চিন্তাধারা জানতে চান,” পয়েন্টিং বলেন। “কীভাবে সমস্যার দিকে এগুচ্ছেন তা সমস্যাটির সমাধানের চেয়ে কোন কোন ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”

আর তাই এ ধরনের প্রশ্নে ভুল উত্তর দেওয়ার চেয়ে কোনো কারণ ছাড়াই ভীত হয়ে সব ভুলে যাওয়াই বড় ‘ভুল’ হয়ে দাঁড়ায় বলে জানান তিনি।

এর আগে চাকরি খোঁজার প্রতিষ্ঠান জিপরিক্রুটার-এর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা জেফ জিউয়েলিং তার প্রিয় ধাঁধার মতো এক প্রশ্ন তুলে ধরেন বিজনেস ইনসাইডারে- “একটি হাতুড়ি আর একটি পেরেকের দাম ১.১০ ডলার, আর হাতুড়ির দাম পেরেকের চেয়ে ১ ডলার বেশি। পেরেকের দাম কত?”

“কিছু প্রার্থী সঙ্গে সঙ্গে ১০ সেন্ট-এ আটকে যাবেন, যা অবধারিতভাবেই ভুল,” বলেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *