নওগাঁয় স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী স্কুল

আরিফুল হক সোহাগ, নওগাঁ প্রতিনিধি। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকলেও স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে মোবারক হোসেন প্রতিবন্ধী  বিদ্যালয়টি। প্রথমে  অল্পকিছু সংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ২৫৪  জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে বিদ্যালয়টিতে। মোবারক  হোসেন  প্রতিবন্ধী  বিদ্যালয়টি নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার নিতপুর গ্রামে ২০১৩  সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়টিতে পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা ও ডিজিটাল  মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠদান ও বিনোদন প্রদান করা হয়। কোনোরকম বেতন-ভাতা ছাড়া এ বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চাকরি করছেন ১১ জন  শিক্ষক ও কর্মচারী। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়টিতে সপ্তাহে তিন দিন করে দুই শিফট ভাগে  বিভক্ত হয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হয়। এছাড়া বিদ্যালয়টিতে একটি মাত্র ভ্যানগাড়ি থাকায় দূর দূরান্ত থেকে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে আসা অসম্ভব হয়ে পড়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।  বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. মউদুদ আহম্মেদ  জানান, বিদ্যালয়টিতে   তারা প্রায় ছয় বছর যাবত বিনা পারিশ্রমিকে প্রতিবন্ধী কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করে   আসছেন। দূর থেকে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করার মতো একটি মাত্র ভ্যানগাড়ি আছে   তাদের। মাঝে মধ্যে এই গাড়িটি বিকল হয়ে পরলে বাচ্চাদের বিদ্যালয়টিতে আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে বিকল্প কোনও উপায় থাকে না। তিনি সরকারের প্রতি এই বিদ্যালয়টির প্রতি সুদৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান। এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদারের নিজস্ব অর্থায়নে ও পোরশা উপজেলা প্রশাসন  জনস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগিতায় দুটি ক্লাসরুম আধাপাকা ও দুটি টয়লেট পাকাকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি এই বিদ্যালয়টিকে সরকারিকরণ ও যাতায়াতের সুব্যবস্থা করলে শিক্ষার মান আরও ভালো হবে। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য সাধন চন্দ্র মজুমদার  বলেন, এই বিদ্যালয়টিকে ঘিরে আমার অনেক স্বপ্ন। সময় করে একদিন অটিজম বিশেষজ্ঞ সাইমা ওয়াজেদ পুতুলকে নিয়ে আসব এই বিদ্যালয়ে। তাকে কাছে পেলে এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আরও উৎসাহিত হবে। এরইমধ্যে এই বিদ্যালয়ে ১০টি হুইল চেয়ার দেয়া হয়েছে। দুটি কাঁচা ক্লাসরুমকে আধা পাকা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দুটি টয়লেটকে পাকা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগামীতে স্কুলটির যাতায়াতের সুবিধার জন্য আরও গাড়ির ব্যবস্থা করা হবে এবং বিদ্যালয়টিকে আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *