মোবাইল ফোন নতুনই থাকবে যেভাবে

চকচকে-ঝকঝকে জিনিস কার না পছন্দের? নিজের প্রতিদিনের ব্যবহার করা মোবাইল ফোনটিকে অনেকেই নতুন দেখতে চান। সাধারণত, স্মার্টফোন পুরোনো হয়ে গেলে এর পারফরম্যান্স কমতে দেখা যায়। অনেকেই পুরোনো স্মার্টফোনে নতুনের মতো কাজ পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। কিন্তু আসলে হতাশ হতে হয়। কিন্তু চাইলে আপনার মোবাইল ফোনটি সব সময় নতুনের মতো ঝকঝকে ও কাজের উপযোগী করে রাখতে পারেন। কয়েকটি পরামর্শ আপনার কাজে লাগতে পারে:

কেস ও স্ক্রিন প্রটেক্টর লাগান: স্মার্টফোনের সুরক্ষায় এর খাপ বা কেস ও সুরক্ষা পর্দা বা স্ক্রিন প্রটেক্টর গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্মার্টফোনকে নতুন রাখতে সাহায্য করে। এক মাসের পুরোনো হোক বা একেবারে নতুন হোক, পারলে কেস ও স্ক্রিন প্রটেক্টর কিনে নিন। এতে স্মার্টফোনে দাগ পড়া ও হাত থেকে পড়ে গেলেও কিছুটা সুরক্ষা পাবেন।

নিয়মিত ফোন পরিষ্কার: সব সময় কেস ব্যবহার করলেও মাঝেমধ্যে নরম কাপড় দিয়ে স্মার্টফোন পরিষ্কার রাখা ভালো। এতে স্মার্টফোনে ময়লা জমে না, দেখতেও সুন্দর লাগে। তবে কখনো টিস্যুর সঙ্গে পানি বা অন্যান্য পরিষ্কার করার রাসায়নিক দিয়ে মোবাইল পরিষ্কার করা ঠিক নয়। এতে ফোনের গায়ে আর্দ্রতা জমতে পারে।

হোম স্ক্রিনে বেশি অ্যাপ নয়: আপনার মোবাইলের হোম স্ক্রিনে অনেক অ্যাপ রেখে তা অগোছালো করে রাখবেন না। অনেক সময় ডেস্কটপেও অনেকেই অগোছালোভাবে ফাইল রেখে দেন। ডেস্কটপে অনেক বেশি ফাইল জমে থাকলে এর গতি কমে যায়। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও হোম স্ক্রিনে অনেক বেশি অ্যাপ থাকলে এর পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে। এ ছাড়া স্মার্টফোনের ব্যাটারি দ্রুত ফুরায়। এ জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ স্মার্টফোনের হোমস্ক্রিন থেকে সরিয়ে রাখুন।

অ্যান্টিভাইরাস রাখুন: স্মার্টফোনে অনেকেই অ্যান্টিভাইরাস রাখতে চান না। কিন্তু অ্যান্টিভাইরাস থাকার সুবিধা হচ্ছে, এটি নিয়মিত ম্যালওয়্যার পরীক্ষা করে। নিরাপত্তার জন্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে।

ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখা: স্মার্টফোনের কিছু সাধারণ বিষয় মনে রাখলে তা ভালো রাখা যায়। যেমন যেসব অ্যাপ ব্র্যাকগ্রাউন্ডে চালু থেকে ব্যাটারি ফুয়ার, সেগুলো চালু না রাখা। অনেকেই ব্যবহারের পর ব্লুটুথ বা ওয়াই-ফাই চালু করে রাখেন। এতে ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের ক্ষমতা কমে ও ব্যাটারির দ্রুত ফুরায়।

নিয়মিত ব্রাউজার পরিষ্কার: অনেকেই স্মার্টফোনের ব্রাউজার ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্যাশ মোছেন না। এতে স্মার্টফোনের মেমোরি ভরে যায়। স্মার্টফোনের গতি একেবারেই কমে যায়। নিয়মিত ক্যাশ পরিষ্কার করুন। স্মার্টফোন দ্রুত চলবে।

লাইভ ওয়ালপেপারে ‘না’: লাইভ ওয়ালপেপার যতই আকর্ষণীয় হোক, পারতপক্ষে তা ইনস্টল না করাই ভালো। স্মার্টফোনের ব্যাটারির কথা মাথায় রেখে লাইভ ওয়ালপেপার থেকে দূরে থাকুন।

তরল থেকে দূরে রাখুন: আধুনিক অনেক স্মার্টফোন ধুলা ও পানিরোধী। তারপরও স্মার্টফোনের সুরক্ষার কথা বিবেচনায় বৃষ্টি বা পানি থেকে দূরে রাখুন। এখন বেশির ভাগ স্মার্টফোনের ব্যাটারি খোলা যায় না৷ ফলে স্মার্টফোনটিতে পানি পড়লে ফোনটি বন্ধ করে কাছের সার্ভিস সেন্টার থেকে ফোনটি খুলে ঠিক করে নিন।

ফোনে চাপ যেন না পড়ে: অনেক সময় স্মার্টফোন আঁটো পোশাকের সঙ্গে রাখলে তাতে চাপ পড়ে। জিনস বা কোনো প্রকার আঁটসাঁট প্যান্টের পকেটে ফোন না রাখাই ভালো।

সিমকার্ড বুঝে লাগান: সংযোগ পেতে স্মার্টফোনের জন্য সাধারণত তিন ধরনের সিমকার্ড (সাধারণ, মাইক্রো ও ন্যানো) লাগে। আপনার স্মার্টফোনের ট্রে অনুযায়ী সিম লাগাতে হবে। মাইক্রো ও ন্যানো সিম কেটে ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ, অনেক সময় সিমকার্ড কাজ করে না। মাইক্রো বা ন্যানো সিমকার্ড সংযোগদাতার কাছ থেকে সংগ্রহ করুন। তথ্যসূত্র: গ্যাজেটস নাউ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *