তালার গ্রাম গুলোতে চলছে পিঠা তৈরীর মহাৎসব

এসএম বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: গত কয়েক দশকের চেয়ে এবার বাংলাদেশে যেমন শীতের রের্কড ভেঙ্গেছে তেমনি তালা উপজেলাতে ঘরে ঘরে চলছে শীতের পিঠা তৈরীর ধুম । প্রতিবছরই শীতের আগমন থেকে শুরু করে শীতের শেষ পর্যন্ত উপজেলার প্রতিটা ঘরে ঘরে চলে পিঠাপুলির উৎসব। পিঠা বাঙালির প্রিয় খাবার। এ দেশে এমন মানুষ কমই আছে, যারা পিঠা পছন্দ করে না। পিঠা নিত্যদিনের খাবার না হলেও শীতকালে আসলেই পিঠার ব্যাপক কদর বেড়ে যায়। বিভিন্ন উৎসব আয়োজনেই পিঠা নামের বাড়তি খাবার তৈরি করা হয়। সম্প্রতি উপজেলার কিছু বে-সরকারী সংস্থা গুলো দিনব্যাপী পিঠা উৎসব করেছে । পিঠা উৎসবে হরেকে রকমের ঐতিহ্যবাহী পিঠা প্রদর্শিত হয়েছে ।

আগে শীতের শুরুতেই গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে পৌষ পার্বনের রকমারী পিঠার আয়োজন করা হতো । দাদী-নানী, মা,খালারা পরম মমতায় তৈরী করতো বিভিন্ন ধরনের রসালো পিঠা। নতুন সে ধানের আতব চালে তৈরি হতো পিঠা। এ সময় গ্রামে সন্ধ্যা হলেই চাল কোটার শব্দে মুখরিত হয় চারদিক। রাতভর চলে পিঠা তৈরির কাজ। অনেকে আবার পিঠা তৈরির সময় গীত গেয়ে রাত পার করে।এখন কিছুটা হলেও তেমন আমেজ কম থাকলেও তালা উপজেলাতে চলছে পিঠা তৈরীর মহাৎসব । পিঠার অন্যতম উপাদান চালের গুঁড়ো হলেও এর সঙ্গে লাগে গুড়, ক্ষীরসহ নানা উপকরণ। এ উপকরণের সঙ্গে শীতের একটা যোগসূত্র আছে। তাই হেমন্ত থেকে শীতের শেষ পর্যন্ত পিঠা তৈরির ধুম পড়ে। বাংলাদেশে কত রকম পিঠা হয় তা বলে শেষ করা কঠিন। তবে জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চিতই, পাটিসাপটা, লরি পিঠা, ভাপা, পাতা পিঠা, কাটা পিঠা, ছিট পিঠা, চুটকি পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, চাপড়ি পিঠা, নকশি পিঠা, পুলি পিঠা, জামাই পিঠা, ঝুরি পিঠা ও কুলি পিঠা,তেল পিঠা,রস পিঠা । এসব পিঠার সঙ্গে মিষ্টি বা ঝাল মিশিয়ে তৈরি করা হয় নতুন পিঠা। যেমন চিতই পিঠার সঙ্গে দুধ-গুড় দিয়ে তৈরি করা হয় দুধচিতই। চিতই পিঠার সঙ্গে কাঁচামরিচ ও ধনিয়া পাতা দিয়ে ঝাল পিঠাও তৈরি করা হয়।

খেজুরের রসে তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েস গ্রাম বাংলার মানুষের নবান্নের সেরা উপহার। খেজুরের রস দিয়ে তৈরি করা হতো পাটালি, গুঁড়, মিঠাই সহ নানা রকমের মজার মজার খাবার। সময়ের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী কিছু কিছু শীতের পিঠা।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে দেখা যায় বাড়ি বাড়ি চলছে শীতকালীন পিঠার মহোৎসব। উপজেলা সদরের আছমা বেগম,জাহানারা খাতুনের বাড়িতে বিভিন্ন রকম পিঠা তৈরি করতে দেখা যায়। প্রতি বাড়িতে সকাল বেলা খেজুরের রসে ভেজানো পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ছে । নিজের বাড়ির সদস্য ছাড়াও জামাই, আত্বীয়-স্বজন ও প্রতিবেশী সবাই মিলে এক আসরে বসে চলছে পিঠা খাওয়ার মহোৎসব।

তারা বলেন, বাড়িতে আত্বীয়-স্বজনের আগমন উপলক্ষ্যে প্রত বছর এই পিঠার উৎসব হয়, এটা আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য। অতীতে উপজেলার প্রতিটা বাড়ি বাড়ি শীতকালীন পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হতো। কালের বিবর্তনে এ ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।পিঠা মূলত মুখরোচক খাবার। আগের দিনে বাড়িতে বাড়িতে জামাই এনে হরেক রকমের পিঠা উৎসব চলতো । বর্তমানে যৌথ পরিবার না থাকায় চলনবিলের ঘরে ঘরে সেই ঐতিহ্যবাহী পিঠা উৎসব অনেকটাই কমে এসেছে। তবু শীতে নতুন জামাইয়ের আগমনে ও আপ্যায়নে ঘরে ঘরে সেই হারানো পিঠা উৎসব আবার ফিরেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: Undefined offset: 0 in /home/sporungs/hilibarta.com/wp-content/plugins/cardoza-facebook-like-box/cardoza_facebook_like_box.php on line 937