তালায় তীব্র শৈত্য প্রবাহের মধ্যে দিয়ে বীজতলা তৈরীতে ব্যস্ত কৃষকরা

এসএম বাচ্চু,তালা(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধি: তালা উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে বীজতলা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তীব্র শৈত্য প্রবাহকে উপেক্ষা করে কৃষকরা কাকডাকা ভোরে নেমে পড়ছেন তাদে কাঙ্খিত সুন্দর বীজতলা তৈরীতে।

এলাকার কৃষকরা জানান,এ উপজেলায় কপোতাক্ষ তীরবর্তী নিচু এলাকার বিল সমুহে বন্যার পানিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এলাকার হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। ফলে এলাকার কৃষকরা আমন ধান চাষে ব্যার্থ হওয়ায় আবহওয়া অনুকুলে থাকায় কৃষকরা আগে ভাগে বীজ তলা তৈরীতে ব্যস্ত। বন্যার আশংকায় উপজেলার চাষিরা আমন চাষাবাদ থেকে বিরত ছিল। আমনের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে তাই আগাম জোরে সোরে চাষাবাদের প্রতি ঝুকে পড়েছেন। এ বছর কৃষকরা বিভিন্ন হাইব্রিড ধানের পাশাপাশি দেশীয় ধানের চাষ ব্রি ২৮/বি৩১/বি৫১ জাতের ধান চাষে বেশী ঝুকে পড়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সাতক্ষীরা কর্তৃক বোরো ধানের প্রায় ২৭টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ গুলির মধ্য থেকে বর্তমানে কৃষকরা যে ধানবীজ থেকে ভাল ফলন ও যে বীজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি বীজ গুলো গ্রহন করছেন । আধুনিকতার এ যুগেও প্রয়োজনের তাগিদেই উপজেলার অনেক স্থানে গরু দিয়ে হাল চাষ করে এই বীজতলার জমি প্রস্তুত করতে দেখা গেছে।

তালা উপজেলার কৃষক হৃদ্বয় আইচ বলেন, এলাকার অধিকাংশ কৃষকরা ব্রি- ২৮ জাতের ধান চাষ বেশী করে থাকেন। কৃষকরা কম সময়ে অধিক ফলনের আশায় হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করে থাকেন। ইতোমধ্যে বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির কোম্পানীর বীজে বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। এ সকল কোম্পানীগুলো ধানের বীজ বিক্রির জন্য নানাভাবে প্রচার পচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন রংবেরংঙের বাহারী প্যাকেটে বিক্রি হচ্ছে এ সকল বীজ। কোন নীতিমালা না থাকার কারণে নিন্ম মানের বিভিন্ন বীজে বাজার সয়লাভ হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, গত আমন মৌসুমে তালা উপজেলা সহ জেলাতে আমন ধানে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি ।তাই আমরা এবার জোরে শোরে মাঠে নেমে পড়েছি কৃষক ভাইদের উৎসাহ প্রদান করছি । বোরে মৌসুমে আমাদের তালা উপজেলায় এবার ১৯হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন ধান কাটার পর অনেকেই আলু ও সরিষার চাষ করেছেন। আলু ও সরিষা উত্তোলনের পরপরই বোরো চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করা শুরো করে দিয়েছেন । এছাড়াও হঠাৎ করে ধানের বীজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা একটু সংকটে পড়েছেন। ফলে একদিকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বীজতলা তৈরিতে ইরি-বোরো সঠিক সময়ে করতে পারবে না বলে কৃষকরা আশ্বাস প্রদান করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: Undefined offset: 0 in /home/sporungs/hilibarta.com/wp-content/plugins/cardoza-facebook-like-box/cardoza_facebook_like_box.php on line 937